Home অন্যান্যসামাজিক সমস্যাসমূহ এবং এগুলো সমাধানের উপায়
সামাজিক সমস্যাসমূহ এবং এগুলো সমাধানের উপায়

সামাজিক সমস্যাসমূহ এবং এগুলো সমাধানের উপায়

সামাজিক সমস্যা কী?

সমাজ ও সামাজিক সমস্যা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সমাজ সৃষ্টির লগ্ন থেকেই সামাজিক সমস্যা ছিল, এখনও রয়েছে। শুধু সমস্যার প্রকৃতি ও ধরনের পার্থক্য ঘটেছে। সামাজিক সমস্যা হলো সমাজের এমন একটা অস্বাভাবিক অবস্থা যা অধিকাংশ মানুষকেই প্রভাবিত করে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হয়। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অপরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা কিংবা ভূমিকা পালনে ব্যর্থতাই সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। সমাজভেদে সামাজিক সমস্যার রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণভাবে সমাজের জন্য ক্ষতিকর ও অসুবিধাজনক অবস্থা বা পরিস্থিতিকেই সামাজিক সমস্যা বলে। সামাজিক সমস্যা সাময়িক সময়ের জন্য সৃষ্টি হয় না। এটি কমবেশি স্থায়ী হয় এবং এর সমাধানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন অনুভূত হয়। সুতরাং সামাজিক সমস্যা হলো সমাজ জীবনের এমন এক অবস্থা, যা সমাজবাসীর বৃহৎ অংশকে প্রভাবিত করে, যা অবাঞ্ছিত এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য সমাজবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে উদ্যোগী হয়ে ওঠে।

women tourture
নারী নির্যাতনসহ নারীকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ্রগ্রহন থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। ফলে তারা পিছিয়ে পরছে সমাজের থেকে।

কিভাবে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়?

সামাজিক বিশৃঙ্খলা হতে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সমাজের প্রচলিত আচার-আচরন, রীতি-নীতি, প্রথা প্রভৃতির নিয়ন্ত্রণের ব্যতিক্রমই সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সামাজিক বিশৃঙ্খলা তখনই দেখা দিবে যখন ব্যক্তির উপর সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব হ্রাস পাবে। সামাজিক রীতিনীতি যখন ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষের নৈতিক অবনতি শুরু হয়। নৈতিক অবনতি ব্যাপক আকার ধারণ করলে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙন শুরু হয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙনের ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য দেখা দেয়। এসব পরিস্থিতিতে সমাজে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে থাকে।

সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের লক্ষণগুলো কী কী?

একটা সমাজকে তখনই উন্নত সমাজ হিসেবে ধরা হবে যখন নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো সমাজে বিদ্যমান না থাকবে:

১। মাদকাসক্তি

শিশুকে নিয়ে গৃহস্থলীসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ

২। কিশোর অপরাধ

৩। অপহরণ

৪। অপরাধ

৫। আত্মহত্যা

৬। নারী নির্যাতন

৭। বিবাহ বিচ্ছেদ

৮। আইনশৃঙ্খলার অবনতি

৯। ঘুষ

শিশুর প্রতি অবহেলা তার ব্রেনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

১০। সন্ত্রাস‌

১১। রাহাজানি

১২। চাদাবাজি

১৩। ছিনতাই

১৪। স্বজনপ্রীতি

১৫। হত্যা

১৬। শিশুদের প্রতি অবহেলা

১৭। শিশুশ্রম

crime
চা‌ঁদাবাজি, হত্যাকান্ড, ছিনতাইসহ সমাজবিরোধী কাজের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

১৮। স্বেচ্ছাচার

১৯। যৌনাচার

২০। যৌনব্যাধির প্রাদুর্ভাবে ইত্যাদি।

সামাজিক নৈরাজ্য কী?

সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরম রূপই হচ্ছে সামাজিক নৈরাজ্য। রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্রই যখন কাজ করে না এবং শাসনযন্ত্র ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তখন সমাজে নৈরাজ্য দেখা দেয়। যেমন :ঘুষ, নারি নির্যাতন, অপহরণ, সন্ত্রাসী, যৌনাচার ইত্যাদি সমাজে ঘটে থাকে।

সামাজিক নৈরাজ্যর কারণ কী?

সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টির পিছনে বহু কারণ কে দায়ী করা হয়। সামাজিক মূল্যবোধের যথাযথ অনুশীলন সুন্দর সমাজের গুরূত্বপূর্ণ বিষয়। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। সমাজে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং শিথিলতা ঘটলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাহায্যপ্রার্থী ব্যাক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলা সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। সমাজের সংস্কৃতি পরিপন্থি কর্মকান্ড, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি প্রভৃতির কারণে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সমাজে নৈরাজ্য ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রভাবে কী হয় ?
সমাজ জীবনে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সমাজে মূল্যেবোধের অবক্ষয় ও নৈরাজ্যপূর্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মানুষের অধিকারের বঞ্চনা বেড়ে যায়। ঘুষ, দুর্নীতিতে গোটা সমাজ অচল হয়ে যায়। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ অপরাধী শাস্তি পায় না। সমাজ জীবনে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেশের সকল সেবা খাতের মান নিম্নগামী হয়। সমাজে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বেড়ে যায়। উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
সামাজিক নৈরাজ্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রতিরোধে যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?
১। ব্যাপক সামাজিক. আন্দোলন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
২। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনা।
৩। অপসংস্কৃতি রোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
৪। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহন করা।
৫। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা।
৬। সমাজের হিংসাত্মক কার্যক্রম রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৭। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

সুতরাং আমাদের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে এ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য। সরকার কিংবা কোনো একজনের দ্বারা এটি সমাধান করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: