Home প্রাকৃতিক দূর্যোগভূমিকম্প কি? | কিভাবে সংগঠিত হয়?
ভূমিকম্প কি? | কিভাবে সংগঠিত হয়?

ভূমিকম্প কি? | কিভাবে সংগঠিত হয়?

ভূমিকম্প কী?

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পৃথিবীর বহু দেশে এবং বহু অঞ্চলে এই প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। সভ্যতার বহু ধ্বংসযজ্ঞের কারন হিসেবে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয় যে, গত ৪,০০০ বছরে ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞে পৃথিবীর প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মারা যায়। নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্টের পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, ভূত্বকের নিচের অংশে তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো থেকে তাপ বিচ্ছুরিত হয়। এই তাপ সঞ্চিত হয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরে পরিচালন স্রোতের সৃষ্টিকরে এবং সেখানে প্রবল শক্তি উৎপন্ন হয়ে ভূত্বকের বিভিন্ন অংশে আলোড়ন ও পরিবর্তন সাধন করে। অভ্যন্তরীণ শক্তি দ্বারা ভূত্বকের এই পরিবর্তন আকস্মিক প্রক্রিয়া ও ধীর প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আকস্মিকভাবে এই পরিবর্তনকারী শক্তির মধ্যে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরিই প্রধান। কখন কখন ভূপৃষ্ঠের কতক অংশ হঠাৎ কোনো কারণে কেপে ওঠে। এ কম্পন অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচন্ড হতে পারে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূপৃষ্ঠের এরূপ আকস্মিক ও ক্ষনস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। ভূঅভ্যান্তরে যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus) বলে। কেন্দ্রের ঠিক সোজাসুজি উপরের ভূপৃষ্ঠের নাম উপকেন্দ্র (Epicenter) । কম্পনের বেগ উপকেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে চারিদিকে কমে যায়।

ভূমিকম্পের কারণ কী?

ভূমিকম্পের কারন অনুসন্ধানের সময় বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূকম্পন বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত। পৃথিবীর ব্যবচ্ছেদে দেখা যায় যে ভূ-ত্বক ৮ টি বড় বড় টুকরা ও ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত। এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত। ভূপৃষ্ঠে যেসব কারনে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই প্লেটগুলির বিভিন্ন রকমের স্থানান্তর বা বিচ্যুতি। এছাড়াও অন্য যেসব কারনে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তা হল : ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূআলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়। আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচন্ড শক্তিতে ভূঅভ্যান্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূনিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটলের ও ভাজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। এছাড়াও পাশাপাশি অবস্থানরত দুটি প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা অনুভূমিকভাবে আগে -পিছে সরে যায়। এ ধারনের সংঘাতপূ্র্ন পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

ভূমিকম্পের ফলাফল কী?

earthquake

ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীতে বহু পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ফলাফল গুলো হল -ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকে অসংখ্য ফাটল এবং চ্যুতির সৃষ্টি হয়। কখন সমুদ্রতলের অনেক স্থান উপরে ভেসে ওঠে। আবার কখনো স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়। অনেক সময় নদীর গতি পরিবর্তত বা বন্ধ হয়ে যায়। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পর্বতগাত্র থেকে বৃহৎ বরফখন্ড হঠাৎ নিচে পতিত হয় এবং পর্বতের পাদদেশে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমুদ্রের পানি তীর থেকে নিচে নেমে যায় এবং পরক্ষণেই ভীষণ গর্জন সহকারে ১৫ -২০ মিটার উচুঁ হয়ে ঢেউয়ের আকারে উপকুলে আছড়ে পড়ে । এ ধারনের জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভারত প্রভৃতি দেশে ব্যাপক জান -মালের ক্ষতি হয়। ভূমিকম্পের ফলে কখনো উচ্চভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয়। আবার কখনও সমুদ্রের তলদেশের কোনো স্থান উচুঁ হয়ে সমুদ্রে দ্বীপের সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের ঝাকুনিতে ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিক পার্শ্বচাপের প্রভাবে কুঁচকে ভাঁজের সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের ফলে পার্বত্য অঞ্চল থেকে ধস নেমে নদীর গতি রোধ করে হ্রদের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে বহু প্রাণহানি ঘটে । ভূমিকম্পে রেলপথ, সড়কপথ, পাইপলাইন প্রভৃতি ভেঙে যায় এবং যাতায়াত ব্যাবস্থা অচল হয়ে পড়ে। টেলিফোন লাইন, বিদ্যুৎ লাইন প্রভৃতি ছিড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে ভূপৃষ্ঠের বড় বাধ, কালভার্ট, সেতু প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও অনেক সময় সুনামির সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: